Home Blog Page 43

বাবুগঞ্জে বিশ্ব শিশু দিবস ও শিশু অধিকার সপ্তাহের বর্ণাঢ্য উদ্বোধন

বরিশালের বাবুগঞ্জে নানান বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিশ্ব শিশু দিবস ও শিশু অধিকার সপ্তাহ-২০২৫’এর বর্ণিল উদ্বোধন করা হয়েছে। ‘শিশুর কথা শুনবো আজ, শিশুর জন্য করবো কাজ’-এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সোমবার (৬ অক্টোবর) উপজেলা অডিটোরিয়ামে শিশু সমাবেশ, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শিশু অধিকার সপ্তাহের শুভ উদ্বোধন করা হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে সপ্তাহব্যাপী বিভিন্ন বর্ণিল কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ফারুক আহমেদ।

উপজেলা প্রশাসন ও শিশু একাডেমির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ওই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আবদুর রহমান সন্ন্যামত এবং বিমানবন্দর প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক আরিফ আহমেদ মুন্না। উপজেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা মোঃ ইসমাইল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আরেক বিশেষ অতিথি উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ মিজানুর রহমান।

আলোচনা সভায় শিশু বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন রাশেদ খান মেনন মডেল উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থী মুয়াজ আলী। এসময় উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম, পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন কর্মকর্তা কবির উদ্দিন হাওলাদার, শিশু একাডেমির প্রধান প্রশিক্ষক ফাতেমা লিওনি প্রমুখসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিশু একাডেমির শিশুশিল্পী, শিশু শিক্ষার্থী এবং তাদের অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।

বিশ্ব শিশু দিবস ও শিশু অধিকার সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা মোঃ ইসমাইল হোসেন। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতাকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ফারুক আহমেদ বলেন, ‘আজকের শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। সেই আগামীর ভবিষ্যতকে সুরক্ষিত রাখতে আমাদের সকলকে সচেতন হতে হবে। শিশুর মানসিক বিকাশের জন্য পরিবার এবং সমাজে শিশুর জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে হবে। শিশুর সামনে এমন কিছু করা বা এমন কিছু বলা থেকে বিরত থাকতে হবে, যা পরবর্তীতে তার মানসিক বিকাশকে বাঁধাগ্রস্ত করতে পারে। শিশু তার পরিবার এবং চারপাশের পরিবেশ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে। তাই শিশুর জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি এবং শিশুর অধিকার রক্ষায় সবাইকে ভূমিকা রাখতে হবে।’

ইতালিতে বরিশাল বিভাগীয় জাতীয়তাবাদী ফোরামের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী বরিশাল বিভাগীয় কমিটির পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের লক্ষ্যে এক আলোচনা ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
৫ অক্টোবর সোমবার সন্ধ্যায় ইতালির রোম শহরের লারগো প্যানেস্টিনায় অবস্থিত কর্ণফুলি রেস্টুরেন্টের আন্ডারগ্রাউন্ড হলরুমে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় বরিশাল বিভাগীয় জাতীয়তাবাদী ফোরামের সভাপতি মোঃ শাহিন কবির সরদারের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক কাজী জাহাঙ্গীর ও শরিফুল ইসলাম মাঝির সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন প্রধান উপদেষ্টা মিনজু সরদার, উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য হাসান ইমাম লিখন, নাসির খান, শামীম খান, আরিফ বেপারী, জাতীয়তাবাদী ফোরামের সি‌নিয়র সহ-সভাপতি ও বরিশাল জেলা সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ জামাল সরদার, বরিশাল জেলা সমিতির সভাপতি মেহেদী হাসান সোহেল ভূঁইয়া। অনুষ্ঠানে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন মোঃ সোহেল খান।

এছাড়া আরও বক্তব্য রাখেন মোঃ শফিক শিকদার, সোহাগ খান, যুগ্ম সম্পাদক মোঃ মাইনুদ্দিন আকন, প্রচার সম্পাদক সুমন সরদার ও লিখন মল্লিক ।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আব্দুর রহিম মোস্তাক, আব্দুস সালাম মল্লিক, মিজান শরীফ, আজম মৃধা, মোস্তাফা কামাল,হাওলাদার আরিফ, জ‌হির হাওলাদার,স‌জিব মোল্লা প্রমুখ।

সভায় জানানো হয়, শীঘ্রই বরিশাল বিভাগীয় জাতীয়তাবাদী ফোরামের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে।

বাবার হাতে ৬ বছরের শিশু কন্যা খুন

 

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধিঃ

লক্ষ্মীপুর জেলার সদর উপজেলার ১৯নং তেওয়ারীগঞ্জ ইউনিয়ন, ৭নং ওয়ার্ডে আন্দার মানিক গ্রামের কাদের মাঝির ছেলে ফারুক হোসেন দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত, মাদকের অর্থ জোগানে প্রায় তার পারিবারের সাথে ঝগড়া হয়,অন্যান্য দিনের ন্যায়, আজ সোমবার সন্ধ্যা ৬টা মাদক সেবন করে বাড়ি আসে, এই নিয়ে তাদের স্বামী স্ত্রীর মধ্যে রাগারাগি হয়,এবং তার স্ত্রী ৬বছরের কন্যা সন্তান ফারিহা কে ঘরে রেখে সে তার বাপের বাড়ি চলে যায়, তখন ফারুক নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ঘরে থাকা দা দিয়ে তার মেয়ে ফারিহা কে নিজ হাতে খুন করে লাশ পুকুরে পালাই দেয়, মেয়েকে খুন করে পুকুরে পালানোর সময় বাড়ির লোকজন দেখতে পেয়ে ততক্ষণে তাকে আটক করে, পুকুর থেকে মৃত অবস্থায় শিশু ফারিহা কে উদ্ধার করে, এবং ৯৯৯ কল করে লক্ষ্মীপুর সদর থানায় অভিযোগ করলে রাত ৮টায় পুলিশ এসে খুনি কে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়, ও লাশ পোস্টমেটামের জন্য জেলা সদর হাসপাতালে পেরন করেন। এলাকাবাসী ও পরিবারের অভিযোগ এলাকায় মাদকের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় আমরা আমাদের সন্তানদের নিয়ে আতংকিত, তারা আরও বলেন যারা এলাকায় মাদক সেবন ও মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত, তাদের দ্রুত গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনার জন্য আমরা প্রশাসনের নিকট জোর দাবি জানাচ্ছি।

বরিশালের গৌরনদীতে মহাসড়কের পাশে ময়লার ভাগার

0

কালের ধারা অনলাইন

ডেস্কঃ বরিশালের গৌরনদীতে মহাসড়কের পাশ থেকে ময়লার ভাগার। মানুষের অসুস্থতা আর পরিবেশ দূষণ হচ্ছে। গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী   অফিসার ও পৌর প্রশাসক মোঃ ইব্রাহীম বলেন ময়লার দূর্গন্ধে অতিষ্ট এলাকাবাসী বিষয়টি  নিয়ে  তিনি এ আশ্বাস প্রদান করেন। অতি দ্রুত ময়লায় ভাগার সরানোর জন্য দিনি নির্দেশ দিয়েছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মহাসড়কের টরকী নীলখোলা ব্রীজের ঢালে প্রায় দুইশ’ ফুট জায়গার মধ্যে বাসাবাড়ির ময়লা-আবর্জনা, বাজারের বর্জ্য ও জবাইকৃত গবাদী পশুর মল ফেলে স্থানটিকে ময়লা ভাগারে পরিণত করা হয়েছে। ময়লাগুলো যত্রতত্র ভাবে রাখার কারনে মহাসড়কের কার্পেটিং সড়কের প্রায় সাত ফুট দখল করে আছে।

স্থানীয় বাসিন্দা রানা দেওয়ান বলেন, পৌর কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন যাবত টরকী বন্দর ও পৌর এলাকার আশপাশের বর্জ্য মহাসড়কের পাশে ফেলে যাচ্ছে। এতে স্থানটি ময়লার ভাগারে পরিণত হয়েছে। ভাগার থেকে ছড়ানো গন্ধে মহাসড়কের পাশের মসজিদে মুসল্লীদের নামাজ আদায় করতে কষ্ট হচ্ছে। এছাড়াও স্থানীয় বাসিন্দা, পথচারী ও ছোট যানবাহন চালকরা চরম ভোগান্তির মধ্যে রয়েছে।

এ মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন যাতায়তকারী ভ্যান চালক কাওছার হোসেন বলেন, কয়েক বছর ধরে পৌরসভার বর্জ্য স্থানটিতে যততত্র ভাবে ফেলা হচ্ছে। ময়লার দূর্গন্ধে নাখ-মুখ চেপে আমাদের চলতে হচ্ছে। এরআগে বর্জ্যগুলো সরিয়ে নেওয়া হলেও পূনরায় ফেলা হচ্ছে। মহাসড়কের পাশ থেকে ময়লার ভাগার সরিয়ে নেওয়ার জন্য নবাগত উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।

এবিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডা. টিপু সুলতান বলেন, ময়লার ভাগাড় জনস্বাস্থ্য এবং পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি। এর প্রভাবে শ্বাসকষ্ট, চর্ম ও সংক্রামক ব্যাধি সহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যে কারনে জনগুরুত্বপূর্ন এলাকা এড়িয়ে ময়লা ফেলা উচিত।

সদ্য যোগদানকারী গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক মোঃ ইব্রাহীম বলেন, বিষয়টি জানতে পেরে এব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আশা করছি অতিদ্রæত সময়ের মধ্যে সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। এছাড়াও পরিকল্পিত ভাবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে।

বাটাজোড়া পার্থ কম্পিউটার সিস্টেম শো রুম উদ্ভোধন

কালের ধারা ডেস্কঃ

বরিশালের গৌরনদীতে আজ বিকালে পার্থ কম্পিউটার সিস্টেম এর নতুন শো রুম উদ্ভোধন। আজ সোমবার বাটাজোর বাসস্টান্ডে শোরুম টি উদ্বোধন করেন বাটাজোর ইউনিয়ন সাবেক চেয়ারম্যান বাবুল হোসেন, প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ও সিইও পার্থ জানান আমরা গৌরনদী উপজেলায় একটি আধুনিক সংসস্পুন্য  প্রতিষ্ঠান। আমরা কম বাজেট থেকে শুরু করে সব চেয়ে হাই কোয়ালিটি কম্পিউটার  ও সিসি ক্যামেরা সেল করে থাকি।ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী আধুনিক সেবা দিতে প্রস্তুত

যমুনা অয়েল ফতুল্লা ডিপোর ডিজেল ডিপোতেই রক্ষিত : ট্যাংকের ক্যালিব্রেশনে পরিমাণে কিছুটা তারতম্য ও তথ্য বিভ্রাটচ

চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধিঃ

যমুনা অয়েলের ফতুল্লা ডিপোর ডিজেল ডিপোতেই রক্ষিত আছে। এই ডিপো হতে কোন ডিজেল গায়েব হয়নি। ট্যাংকের ক্যালিব্রেশনের কারণে যে পরিমান হেরফের দেখা যাচ্ছে, তা ডিপোতেই রয়েছে। সম্প্রতি ফতুল্লা ডিপো থেকে ডিজেলের পরিমাণ নিয়ে ত্রুটি চোখে পড়ার পর তেল সংশ্লিষ্টরা এসব কথা বলেন। তারা বলেন, পাইপলাইনে শিনকেস, মিটারে যান্ত্রিক ত্রুটি তাপমাত্রা জণিত সমস্যায়ও তেলের পরিমাণে তারতম্য হতে পারে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, পাইপলাইনে চট্টগ্রাম হইতে নারায়ণগঞ্জ এর গোদনাইল এবং ফতুল্লাতে অবস্থিত পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েল কোম্পানীর ডিপোগুলোতে টেস্ট এবং ট্রায়াল বেসিসে ডিজেল সরবরাহ করা হচ্ছে। ডিজেল সরবরাহ করতে গিয়ে সব ডিপোতেই কম বেশী শর্ট দেখা যাচ্ছে। এগুলো পাইপলাইনে শিনকেস, মিটারে যান্ত্রিক ক্রুটি তাপমাত্রা ট্যাংকে ক্যালিব্রেশনের কারণে তারতম্য হতে পারে। যদিও একটি মহল বিষয়টিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম-ঢাকা পাইপলাইন প্রজেক্ট সরকারের জালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অগ্রাধিকার প্রকল্প। চট্টগ্রাম-ঢাকা পাইপলাইন প্রকল্প (সিডিপিএল) বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এবং এর অঙ্গ প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়েছে। জুন ২০২৫ হতে সিডিপিএল এবং পিটিসি পিএলসি এর মাধ্যমে পাইপলাইনে চট্টগ্রাম হইতে নারায়ণগঞ্জ এর গোদনাইল এবং ফতুল্লাতে অবস্থিত পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েল কোম্পানীর ডিপোগুলোতে টেস্ট এবং ট্রায়াল বেসিসে ডিজেল সরবরাহ করা হচ্ছে। ডিজেল সরবরাহ করতে গিয়ে সব ডিপোতেই কম বেশী শর্ট দেখা যাচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এগুলো পাইপলাইনে শিনকেস, মিটারে যান্ত্রিক ক্রুটি তাপমাত্রা ট্যাংকে ক্যালিব্রেশনের কারণে তারতম্য হতে পারে। তেলের পরিমাণ নিয়ে ক্রুটি চোখে পড়লেও সেগুলো ট্যাংকেই রয়েছে বলে মত সংশ্লিষ্টদের।

সূত্র জানায়, যমুনা অয়েল কোম্পানি লিঃ এর দ্ইুটি ট্যাংক যথাক্রমে ট্যাংক নং- ২২ এবং ট্যাংক নং- ২৩ পাইপলাইন প্রকল্পের সহিত সংযুক্ত। ট্যাংক নং ২২টি ছিল পুরনো ট্যাংক। যা ব্যুরো ভেরিটাসের পরামর্শে কোম্পানীর নিয়োগকৃত ঠিকাদার মেসার্স আরিয়ানা ট্রেডার্স, পতেঙ্গা, চট্টগ্রাম এর মাধ্যমে মেরামত করে মেসার্স এসএম নুরুল হক, হাউজ নং সি/২২ রোড নং- ১৭৩, খালিশপুর, হাউজিং এস্টেট, খুলনা- ৯০০০ (বিএসটিআই লাইসেন্স নং- এমসি-০৪) মার্চ ২০২৫ এ নতুন করে ক্যালিব্রেশন করা হয়। ট্যাংক নং- ২৩ টি মেসার্স মজুমদার এন্টারপ্রাইজ চট্টগ্রামের মাধ্যমে নির্মান করা হয়।

জানা গেছে, গত ২৫ জুন সিডিপিএল এবং পিটিসি পিএলসি সমন্বয়ে টেস্টিং এবং ট্রায়াল বেসিসে চট্টগ্রাম টার্মিনাল হতে যমুনা ফতুল্লা ডিপোতে ২২ ও ২৩ নং ট্যাংকে ডিজেল সরবারহ করা হয়। যেটি বিপিসি নিযুক্ত সার্ভেয়ারের মাধ্যমে তৈল নিরুপন করা হয়। তৈল নিরুপনে পিটিসি পিএলসি, বিপিসির সার্ভেয়ার এবং সংশ্লিষ্ট কোম্পানীর অফিসারে যৌথ স্বাক্ষরে তা নিরুপন করা হয়। ২২ নং ট্যাংকের তেল খালাসের সময় নতুন ক্যালিব্রেশন অনুযায়ী কিছুটা তারতম্য বা গড়মিল দেখা যায়। এরপর গত ১৩ সেপ্টেম্বর ২য় পর্যায়ে সিডিপিএল এবং পিটিসি পিএলসি সমন্বয় ট্যাংক নং-২২ এবং ২৩ এ ডিজেল সরবরাহ করা হয়। এই অবস্থায় ১ম ও ২য় পাম্পপিং পরবর্তী হিসাব নিরুপনে জানা যায়, অধিক পরিমান তেলের পার্থক্য পরিলক্ষিত হচ্ছে। এরই প্রেক্ষিতে ২২নং ট্যাংকে পুরাতন ক্যালিব্রেশন (মার্চ ২০২৫ এর আগে) নতুন ক্যালিব্রেশন চার্ট (মার্চ ২০২৫ এ ট্যাংক মেরামত করার পর) পর্যালোচনা করে আনুমানিক প্রায় ৬০,০০০ লিটারের ক্রুটিচোখে ধরা পড়ে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ডিপো কর্তৃপক্ষ পাইপলাইন সংশ্লিষ্ট ২২নং এবং ২৩নং ট্যাংক রি-ক্যালিব্রেশন করার জন্য প্রধান কার্যালয় বরাবর পত্র প্রদান করে।

সূত্র জানায়, ডিপো কর্তৃপক্ষের রি-ক্যালিব্রেশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে যমুনা অয়েল কোম্পানি লিঃ কর্তৃপক্ষ গত ২৮ সেপ্টেম্বর ট্যাংক নং ২২ এবং ২৩ রি-ক্যালিব্রেশন করার জন্য সিডিপিএল, পিটিসি পিএলসি এবং কোম্পানি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে ৬ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করে। ক্যালিব্রেশন প্রতিষ্ঠান মেসার্স কর্নফুলী ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ, পতেঙ্গা, চট্টগ্রাম (আবুল মনজুর-স্বত্ত্বাধিকারী) এর মাধ্যমে কমিটির উপস্থিতিতে ট্যাংক নং ২২ এবং ২৩ রি-ক্যালিব্রেশন করা হয়। যাহা বিএসটিআই কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে।

ডিপো সংশ্লিষ্টরা জানান, এই ক্যালিব্রেশন চার্ট পাওয়ার আগেই কেউকেউ তেল গায়েব হয়ে গেছে বলে প্রচার করছে। যেটি আদৌ সত্য বা প্রমাণিত হয়নি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রি-ক্যালিব্রেশন চার্ট পাওয়া গেলেই বুঝা যাবে, গড়মিল থাকা তেল কোথায় আছে বা সেগুলো কোথায় গেল। ডিপো সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তাদের এই ডিপো থেকে কোন প্রকার ডিজেল গায়েব হইনি। সব অভিযোগ রি-ক্যালিব্রেশন চার্ট পাওয়ার পর মিথ্যা বলে প্রমানিত হবে। ফতুল্লা ডিপো হতে ২২নং ট্যাংকের ক্যালিব্রেশনের কারণে যে পরিমান হেরফের হচ্ছে, তা ডিপোতেই রক্ষিত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা অভিজ্ঞতার আলোকে এ প্রতিবেদককে জানান।

জানা গেছে, ট্যাংকে তেল মজুত শুরুর আগে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) থেকে সক্ষমতা যাচাই করে (ক্যালিব্রেশন) সনদ নিতে হয়। এটি নির্দিষ্ট মেয়াদ পর আবার যাচাই করে নবায়ন করতে হয়। তেল কোম্পানির হয়ে কাজটি করে দেয় বেসরকারি কিছু ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। ফতুল্লা ডিপোর ট্যাংক দুটিই ডিজেল রাখার ট্যাংক। এর মধ্যে ২২ নম্বর ট্যাংকে ২০১৮ সালে ও পরে ২০২৫ সালে যাচাই করা হয়েছে। ২০১৮ সালের সক্ষমতা সনদ বলছে, ২২ নম্বর ট্যাংকে ২ হাজার মিটার গভীরতায় তেল ধারণক্ষমতা ১২ লাখ ৮৮ হাজার ৪৪ লিটার। আর ১২ হাজার ১৪০ মিটার গভীরতায় ধারণক্ষমতা ৭২ লাখ ৬৬ হাজার ৩৯৭ লিটার। এ বছর নতুন করে সক্ষমতা যাচাই করে একই ঠিকাদার। এতে বলা হয়, ট্যাংকে ২ হাজার মিটার গভীরতায় ধারণক্ষমতা ১২ লাখ ২৮ হাজার ৮৪০ লিটার। আর ১২ হাজার ১৪০ মিটার গভীরতায় ধারণক্ষমতা ৭২ লাখ ৮ হাজার ১২৯ লিটার। অর্থাৎ, মজুত ক্ষমতা কমে গেছে ৫৮ থেকে ৫৯ হাজার লিটার। তবে ২৩ নম্বর ট্যাংক নতুন বলে এটির সক্ষমতা তুলনা করা যায়নি।

পেট্রোল পাম্প ও ট্যাংকলরি মালিকদের ধর্মঘট

এ বিষয়ে মেসার্স এস এম নুরুল হকের স্বত্বাধিকারী আন্দালিব বিন হক বলেন, সক্ষমতার ক্ষেত্রে তারতম্য হতেই পারে। ৬০ হাজার লিটার কমার বিষয়টি তিনি নিশ্চিত নন জানিয়ে বলেন, এটি মুদ্রণজনিত ভুল হতে পারে। যেহেতু রি-ক্যালিব্রেশন হচ্ছে, একইসাথে তদন্তও হচ্ছে, তাই এটা নিয়ে শংকা থাকা বা অপপ্রচার করা উচিৎ হবে না। এতে করে তৃতীয় পক্ষ সুবিধা নিতে পারে।
সূত্র মতে, তেলের পরিমাণগত পার্থক্য নিয়ে প্রশ্ন উঠায় গত ২৮ সেপ্টেম্বর আরেকটি চিঠিতে ৬ সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। এতে পাইপলাইন কোম্পানির একজনকেও রাখা হয়েছে। তদন্ত কমিটির সদস্য যমুনা অয়েল কোম্পানির এজিএম (ইএন্ডডি) মো. আলমগীর আলম বলেন, তারা ইতিমধ্যে ফতুল্লা পরিদর্শন করেছেন। সবকিছু যাচাই বাছাই করে দেখছেন। এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবেন বলে তিনি জানান।

যমুনা অয়েল কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুস্তফা কুদরত-ই ইলাহী গণমাধ্যমে বলেছেন, অভিযোগ তদন্তে কমিটি করেছেন। তারা সবপক্ষের সাথে কথা বলে এবং সব কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষা করে রিপোর্ট দেবেন। তার আলোকেই পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।

যমুনা অয়েল কোম্পানির একজন কর্মকর্তা বলেন, তদন্ত কমিটিতে বিশেষজ্ঞ লোকজন রয়েছেন। ইচ্ছে করলেই একজন কর্মকর্তা ভুল বুঝিয়ে কিছু করতে পারবেন না। তদন্তে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে। ক্যালিব্রেশনে গোলমাল হতে পারে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সূত্র জানিয়েছে, দেশে বর্তমানে ৭০ লাখ লিটারের মতো জ্বালানি তেলের চাহিদা রয়েছে। এই তেলের সিংহভাগ বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) তেল আমদানির পুরো বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করে। বিপিসি ১৫ লাখ টনের কম ক্রুড অয়েল এবং বাকিটা রিফাইনড অয়েল আমদানি করে। আমদানিকৃত ক্রুড অয়েল ইস্টার্ন রিফাইনারিতে পরিশোধন করা হয়। বিপিসির আমদানিকৃত সব তেল পদ্মা অয়েল, যমুনা অয়েল এবং মেঘনা পেট্রোলিয়ামের মাধ্যমে বাজারজাত করে। চট্টগ্রাম থেকে এসব তেল নৌ, রেল ও সড়কপথে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ দেয়া হয়। তবে বেশিরভাগ জ্বালানি তেল নৌপথে অয়েল ট্যাংকারে পরিবাহিত হয়। সম্প্রতি চট্টগ্রাম-ঢাকা পাইপলাইনে জ্বালানি তেল সরবরাহ শুরু করার পর নৌপথে তেল পরিবহন কিছুটা কমে আসে। চট্টগ্রামের প্রধান ডিপো থেকে যেভাবে তেল পরিবহন করা হোক না কেন তা সংশ্লিষ্ট কোম্পানির বিভিন্ন আঞ্চলিক ডিপোতে সংরক্ষণ করা হয়। পরবর্তীতে সেখান থেকে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ দেয়া হয়। প্রধান ডিপো ও আঞ্চলিক ডিপোতে তেল সংরক্ষণের জন্য বিশালাকৃতির ট্যাংক রয়েছে। স্টিল স্ট্রাকচারের এসব ট্যাংকে সারা দেশে অন্তত ১৩ লাখ টন তেল মজুদ রাখা যায়।

ময়মনসিংহে বিশ্ব বসতি দিবস ২০২৫ উদযাপি

0

ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি

‘পরিকল্পিত উন্নয়নের ধারা, নগর সমস্যায় সাড়া’ এই প্রতিপাদ্য নিয়ে ময়মনসিংহে বিশ্ব বসতি দিবস পালিত হয়েছে।
আজ ৬ অক্টোবর সোমবার সকালে বেলুন উড়িয়ে ও বর্ণাঢ্য র‌্যালির মাধ্যমে শুরু হয় দিবসটি উদযাপনের কর্মসূচি। পরে ময়মনসিংহ বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসন, গণপূর্ত অধিদপ্তর এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে দিবসটি উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার মো: মোখতার আহমেদ। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ গণপূর্ত জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ড. মোঃ মঈনুল ইসলাম ও আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থানীয় সরকার ও নগর উন্নয়ন বিভাগের প্রভাষক মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান। অনুষ্ঠানটিতে সভাপতিত্ব করেন ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক মুফিদুল আলম।

প্রধান অতিথি বক্তব্যে বলেন, সকল মানুষের জন্য পর্যাপ্ত বাসস্থানের মৌলিক অধিকারের উপর জোর দেওয়া, আমাদের শহর ও নগর গুলোর পরিস্থিতি তুলে ধরা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য টেকসই, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং সমৃদ্ধ নগর ও গ্রামীণ পরিবেশ তৈরি করার জন্য আমাদের সম্মিলিত ক্ষমতা ও দায়িত্বের কথা বিশ্বকে স্মরণ করিয়ে দেওয়াই হচ্ছে বিশ্ব বসতি দিবসের অন্যতম উদ্দেশ্য।তিনি আরো বলেন, এই ময়মনসিংহ শহরকে একটি পরিকল্পিত শহর হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এর জন্য আমাদের শহরের প্রত্যেকটি ইঞ্চিকে ব্যবহারযোগ্য করে তুলতে হবে। সে ক্ষেত্রে আমাদের সকলকে এই কাজের সহযোগিতা করতে হবে। যাতে করে আমাদের আগামী প্রজন্মকে আমরা একটি সুপরিকল্পিত শহর উপহার দিতে পারি।

সভাপতি বক্তব্যে বলেন, আমাদের ভূমি ব্যবহারে নির্দিষ্ট কিছু নীতিমালা থাকলেও আমরা সেই নীতিমালা লক্ষ্য করছি না। যা আমাদের পরিকল্পিত শহর বাস্তবায়নে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে। তাই আমাদের ভূমি ব্যবহারের ক্ষেত্রে ভূমি নীতিমালা অনুযায়ী কাজ করতে হবে।

এ সময় সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ জেলার বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাবৃন্দ ও গণমাধ্যম কর্মী।

কুমিল্লায় ইসলামী ব্যাংকে অবৈধ নিয়োগের অভিযোগে গ্রাহকদের মানববন্ধন

0

কুমিল্লা প্রতিনিধি।।

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-তে এস আলম গ্রুপের কথিত অবৈধ নিয়োগ বাণিজ্যের বিরুদ্ধে কুমিল্লার বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধন করেছেন ব্যাংকের গ্রাহকরা।
সোমবার (৬ অক্টোবর) ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-র কুমিল্লা নগরীর বিভিন্ন শাখাসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলার শাখার সামনে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
একই সময়ে ব্যাংকের রামঘাটলা, চকবাজার, পদুয়ার বাজার, ক্যান্টনমেন্ট, চান্দিনা, মুরাদনগর, চৌদ্দগ্রাম, লাকসাম ও নাঙ্গলকোটসহ বিভিন্ন উপজেলার শাখার সামনে এই কর্মসূচি পালিত হয়। কুমিল্লা শাখার সামনে মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, এস আলম গ্রুপ-সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থাপনায় কোনো বিজ্ঞপ্তি বা পরীক্ষা ছাড়াই ৮ হাজার ৩৪০ জনকে অবৈধভাবে নিয়োগ দেওয়ায় ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি (আইবিবিএল) বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। তাঁদের মধ্যে অনেকেরই ছিল ভুয়া সনদপত্র। এতে ব্যাংকটির সেবার মান ও নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে। অনিয়ম করে এসব অদক্ষ ও অর্ধশিক্ষিত কর্মীর জন্য প্রতি বছর ১৫০০ কোটি টাকারও বেশি আর্থিক ক্ষতি হয়েছে ব্যাংকটির। এ ছাড়াও মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে পানের দোকানদার, গৃহকর্মী, অটোরিকশাচালক, রাজমিস্ত্রির সহকারী এবং রংমিস্ত্রিসহ বিভিন্ন শ্রেণির ব্যক্তিকে এই বিশাল সংখ্যক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। এসব নিয়োগে কয়েকশ’ কোটি টাকার অনিয়ম ঘটেছে বলেও দাবি করা হয়। নগরীর চকবাজার শাখার গ্রাহকরা ব্যাংক কর্মকর্তাদের সতর্ক করে বলেন, অবিলম্বে এসব অবৈধ নিয়োগ বাতিল করে সারা দেশে মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত না করলে গ্রাহকরা একে একে ইসলামী ব্যাংক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবেন।
সুতরাং ইসলামী ব্যাংকে অবৈধ নিয়োগ বাতিল ও সারা দেশ থেকে মেধা যাচাইয়ের মাধ্যমে সৎ ও যোগ্য প্রার্থী নিয়োগের জন্য জোর দাবি জানান। বক্তব্য রাখেন ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরামের কুমিল্লা শাখার আহ্বায়ক নুরে আলম বাবু, সদস্য সচিব খালেদ হোসেন মজুমদার, সদস্য আমান উল্লাহ, মোজাম্মেল হক ফয়সাল, সাইফুল আলম ও মহিবুর রহমান, চকবাজার শাখার গ্রাহক ফোরামের সদস্য কামাল উদ্দিন, সাদেকুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম, পদুয়ার বাজার শাখার বৈষম্যবিরোধী চাকরি প্রত্যাশী পরিষদের কামরুল হাসান, মোতাহের আলম ও জাহাঙ্গীর হোসেন প্রমুখ

ইতালি প্রবাসীদের হৃদয়ের মানুষ — মুজিবুর সিকদার

বাংলাদেশ থেকে বিদেশে পা রাখা মানেই যেন একটাই প্রত্যাশা— টাকা উপার্জন করো। প্রবাসী মানেই টাকার মেশিন— এমন ধারণা এখনো দেশে থাকা অনেকের মধ্যেই প্রবল। অথচ প্রবাস জীবন মানেই কঠোর পরিশ্রম, অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ, নিজের ও পরিবারের জন্য নিরলস সংগ্রাম। চাকরি, ব্যবসা, বা অগণিত ঘাম ঝরানো ঘন্টার পর কেউ সময় পান না নিজের বাইরে অন্যের জন্য ভাবতে।

তবুও এই ব্যস্ততার পৃথিবীতে কিছু মানুষ আছেন, যারা নিঃস্বার্থভাবে মানুষের পাশে দাঁড়ান, সমাজের কল্যাণে কাজ করেন— এমনই এক ব্যতিক্রম মানুষ ইতালির রোমে বসবাসরত মোঃ মুজিবুর সিকদার। তিনি শুধু বরিশালবাসীর ই নয়, বাংলা‌দে‌শি বাংলা ভাষাভা‌ষি মানুষ‌দের মন জয় ক‌রে এক অনন্য ভরসার নাম।

প্রবাসে জীবিত মানুষের বন্ধু অনেক পাওয়া যায়, কিন্তু মৃত্যুর পর পাশে দাঁড়ায় এমন মানুষ পাওয়া যায় না। এই জায়গায় মুজিবুর সিকদার এক উজ্জ্বল উদাহরণ। প্রবাসে কেউ মারা গেলে, অসুস্থ হলে বা বিপদে পড়লে সবার আগে যিনি পৌঁছে যান, তিনি মুজিবুর সিকদার। দির্রোঘ ৩৬ বছ‌রের প্রবাস জীব‌নে তিনি বরিশাল সহ বাংলা‌দেশী প্রবাসী অর্ধশতাধিক মরদেহ নিজ পরিবারের কাছে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছেন— পাশে থেকেছেন স্থানীয় বরিশালবাসীকে নিয়ে।

ইতা‌লি‌তে মুস‌লিম‌দের সালাত আদা‌য়ে চরম সমস‌্যা ছিল, মস‌জিদ ছিল না, যে‌হেতু মু‌জিবুর সিকদার একজন খা‌টি মুস‌লিম ও ধার্মিক মানুষ, তাই ২০১২ সা‌লে রোম শহ‌রে মোন্তা‌নিওয়ালা মস‌জি‌দে বাইতুল মোকাররম না‌মে মস‌জিদ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন । বাংলা‌দে‌শি মানু‌ষের সহ‌যো‌গিতা নি‌য়ে মস‌জিদ প্রতিষ্ঠা ক‌রেন । মস‌জিদ ক‌মি‌টির বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সভাপ‌তির দা‌য়িত্ব পালন কর‌তে‌ছেন ।

করোনার ভয়াল সময়েও তিনি ছিলেন নির্ভীক। গৌরনদীর কটকস্থলের ইতা‌লি প্রবাসী ব‌্যবসায়ী মন্টু মোল্লা ইতা‌লির হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছিলেন— মুজিবুর সিকদার তখন হাসপাতালের নিচে গাছতলায় বসে প্রার্থনা করতেন সুসংবাদের আশায়। বার্থী ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য ওয়াজেদ আলী বেপারীর ছেলে শাহ আলম বেপারী নিজ রুমে মৃত্যুবরণ করলে, কয়েক দিন পর খবর পেয়ে পুলিশ নিয়ে লাশ বাংলাদেশ পাঠানোর ব্যবস্থা করেন তিনি। এমন অসংখ্য মানবিক কাজের সাক্ষী তাঁর প্রবাস জীবন।

নতুন কেউ বাংলাদেশ থেকে ইতালি এলে বিমানবন্দরে গিয়ে স্বাগত জানানো, থাকার ব্যবস্থা করা, খাবার ও কাজ খুঁজে দিতে সহায়তা করা— এসব কাজ তাঁর কাছে নিত্যদিনের ব্যাপার। রাত-বিরাতে কেউ ফোন করলে তিনিও দেরি না করে হাজির হন সাহায্যে।

প্রথমদিকে তাঁর স্ত্রী কিছুটা উদ্বিগ্ন থাকলেও, পরে স্বামীর মানবসেবা দেখে তিনিও অনুপ্রাণিত হয়েছেন সমাজসেবায় অংশ নিতে।

বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বার্থী ইউনিয়নের সুন্দরদী গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য মোহাম্মদ সিকদারের যোগ্য পুত্র এই মুজিবুর সিকদার। দীর্ঘ প্রবাস জীবনে হয়তো তিনি কোটি টাকার মালিক নন, কিন্তু জয় করেছেন বরিশালবাসীসহ অসংখ্য প্রবাসী বাংলাদেশির হৃদয়।

আজ রোমে বরিশাল বিভাগবাসীর একটাই স্লোগান —
“আগামীর বরিশাল বিভাগ সমিতির সভাপতি পদে মুজিবুর সিকদারের বিকল্প নেই।”

শেষকথা — সমাজের জন্য যারা নিঃস্বার্থভাবে শ্রম দেন, মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ান, সংগঠনের পদ-পদবী আসলেই তাদের প্রাপ্য।

ব্যক্তিজীবনে মুজিবুর সিকদার এক সন্তানের জনক। স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে তিনি রোমের মনতানিওয়ালা এলাকায় বসবাস করছেন— মানুষের দোয়া, ভালোবাসা ও শ্রদ্ধায় বেষ্টিত হয়ে।

লেখা : ইতা‌লি প্রবাসী সাংবা‌দিক রিয়াজ হোসাইন ,

গৌরনদীতে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নির্বাচন সম্পন্ন

0

কালের ধারা ডেস্কঃ
বরিশালের গৌরনদী উপজেলার ২নং বার্থী ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক কমিটির নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার টরকী বন্দর বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
নির্বাচন পরিচালনা করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও গৌরনদী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ সরোয়ার আলম বিপ্লব। এ নির্বাচনে দুইটি প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে এবং মোট ৩৫ জন মুক্তিযোদ্ধা ভোটার স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। ভোট গণনা শেষে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কুদ্দুস খান নেতৃত্বাধীন প্যানেল ২১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। অপরদিকে বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসাহাক সন্যামতের প্যানেল পান ১৪ ভোট। ফলাফলে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কুদ্দুস খান আহ্বায়ক এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা মান্নান বেপারী, মুনছের সরদার, মান্নান সরদার ও জালাল বেপারী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন।
ফলাফল ঘোষণার পর আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন গৌরনদী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আনিসুর রহমান, সদস্য সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাদের হাওলাদার, সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মুনসুর হাওলাদার, সাবেক কাউন্সিলর জাকির হোসেন শরীফ, বার্থী ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক মিজানুর রহমান মিন্টু, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক চুন্নু সরদারসহ স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সন্তানরা।