Home Blog Page 7

গৌরনদী উপজেলা আনসার বিডিপি কর্মকর্তার বদলি জনিত বিদায় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

গৌরনদী (বরিশাল) প্রতিনিধি :

আজ গৌরনদী উপজেলা অফিসার্স ক্লাবের উদ্যোগে উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা জনাব হাম্মাদ বিন হোসাইন-এর বদলি জনিত বিদায় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

দীর্ঘ ৪ বছর ৬ মাস গৌরনদী উপজেলায় কর্মরত থাকাকালে তিনি সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। একজন সাদাসিধা ও বিনয়ী মনের মানুষ হিসেবে তিনি সর্বস্তরের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা ও জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। তাঁর নেতৃত্বে আনসার ও ভিডিপি কার্যক্রম আরও সুসংগঠিত ও কার্যকর হয়েছে বলে অনুষ্ঠানে বক্তারা উল্লেখ করেন।

বিদায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব মোঃ ইব্রাহীম স্যার। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) জনাব মোঃ মেহেদী হাসান, উপজেলা প্রকৌশলী জনাব মোঃ অহিদুর রহমান, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা, পিআইও, পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের ব্যবস্থাপক, বিএডিসির উপসহকারী প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ।

অনুষ্ঠানে বক্তারা জনাব হাম্মাদ বিন হোসাইনের কর্মজীবনের সাফল্য তুলে ধরে তাঁর ভবিষ্যৎ কর্মস্থলে আরও সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য শুভকামনা জানান। বিদায়ী কর্মকর্তা তাঁর বক্তব্যে গৌরনদীর সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠান শেষে স্মারক উপহার প্রদান ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে বিদায় অনুষ্ঠানটি সমাপ্ত হয়।

গৌরনদীতে আন্তর্জাতিক অভিবাসী ও জাতীয় প্রবাসী দিবস ২০২৫ উদযাপন

বরিশাল থেকে রনি আহম্মেদঃ

“দক্ষতা নিয়ে যাবো বিদেশে, রেমিট্যান্স দিয়ে গড়বো স্বদেশ” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসবমুখর পরিবেশে আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস ও জাতীয় প্রবাসী দিবস ২০২৫ উদযাপন করা হয়েছে।

দিবসটি উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় গৌরনদী কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) ও গৌরনদী উপজেলা প্রশাসনের যৌথ আয়োজনে এক বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। র‍্যালিটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে টিটিসি প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন গৌরনদী কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অধ্যক্ষ মেজবাহুল আরেফিন চৌধুরী। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ইব্রাহিম।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন ইসলামী ব্যাংক গৌরনদী শাখার ব্যবস্থাপক মোঃ আব্দুল আজিজ, জেলা উত্তর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এম. এ. গফুর, গৌরনদী উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি মোঃ সরোয়ার মোল্লা, প্রশিকা (এনজিও) গৌরনদী উপজেলা শাখার ব্যবস্থাপক মোঃ মোস্তাক আহমদ এবং  ডাচ-বাংলা ব্যাংকের প্রতিনিধি নাদিয়া আক্তার মিম এবং

বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, নিরাপদ ও টেকসই অভিবাসন নিশ্চিত করতে কারিগরি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের কোনো বিকল্প নেই। দক্ষ জনশক্তি তৈরি করে বৈধ পথে বিদেশে পাঠাতে পারলে একদিকে যেমন কর্মসংস্থান বাড়বে, অন্যদিকে তেমনি দেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের উন্নয়ন, অবকাঠামো নির্মাণ ও দারিদ্র্য বিমোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলেও বক্তারা উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন টিটিসির প্রশিক্ষণ শিক্ষক মোহাম্মদ তৈয়বুর রহমান, আব্দুল্লাহ আল মামুন, অলোক বিশ্বাস, রিপন বিশ্বাস, আশরাফ মাহমুদ, মোজাহিদ হোসেন, সরোয়ার সরদার ও জুয়েল রানাসহ টিটিসির প্রশিক্ষণার্থী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারীরা দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে বৈধ ও নিরাপদ পথে বিদেশে গমন এবং দেশ ও প্রবাসীদের সার্বিক কল্যাণ কামনা করেন।

বরিশাল কর্তৃক মহান বিজয় দিবস- ২০২৫ উদযাপন

0

পুলিশ লাইন্স, বরিশাল জেলা পুলিশ, বরিশাল কর্তৃক মহান বিজয় দিবস- ২০২৫ উদযাপন উপলক্ষ্যে “পুলিশ মুক্তিযোদ্ধা সংবর্ধনা অনুষ্ঠান” আয়োজন।

অদ্য ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ খ্রিঃ তারিখ গ্রাটিটিইড হল, পুলিশ লাইন্স, বরিশাল এ জেলা পুলিশ, বরিশাল কর্তৃক মহান বিজয় দিবস-২০২৫ উদযাপন উপলক্ষ্যে পুলিশ মুক্তিযোদ্ধা সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব মোঃ মঞ্জুর মোর্শেদ আলম, ডিআইজি, বরিশাল রেঞ্জ, বরিশাল মহোদয় । অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বরিশাল জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপার জনাব ফারজানা ইসলাম মহোদয়। এ সময় বরিশাল জেলার সকল পুলিশ মুক্তিযোদ্ধা এবং বরিশাল জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

উক্ত সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে পুলিশ মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানে গ্রাটিটিউড হলে জেলা পুলিশ, বরিশাল কর্তৃক মধ্যাহ্ন ভোজ এর আয়োজন করা হয়।

উৎসবমুখর পরিবেশে মহান বিজয় দিবস উদযাপন

 

গৌরনদী. বরিশাল.প্রতিনিধিঃ

যথাযোগ্য মর্যাদা, উৎসবমুখর পরিবেশ ও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় মহান বিজয় দিবস উদযাপন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) ভোরে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসটির আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। পরে সকাল ৬টায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে নির্মিত অস্থায়ী স্মৃতিফলকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।

এসময় উপজেলা প্রশাসন, পৌরসভা, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, গৌরনদী মডেল থানা ও হাইওয়ে থানা, বিএনপি ও তার অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকবৃন্দসহ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

সকাল ৯টায় গৌরনদী সরকারি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরু হয়। পরে শান্তির প্রতীক পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে দিবসের উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক মো. ইব্রাহীম।

অনুষ্ঠানে কুচকাওয়াজ ও শরীরচর্চা প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মেহেদী হাসান, গৌরনদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ তারিক হাসান রাসেলসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

দুপুরে বিজয়মেলা ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এসময় জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। বিকেলে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ ও শিশুদের অংশগ্রহণে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে দিবসটির কর্মসূচি শেষ হয়।

এমপির পিয়নের বিরুদ্ধে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, বরিশাল-৩ এলাকায় তোলপাড়

ডেইলি বরিশাল নিউজঃ

প্রধানমন্ত্রীর পিয়নের পর এবার আরেক পিয়নকে ঘিরে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠে এসেছে। বরিশাল-৩ (মুলাদী–বাবুগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম কিবরিয়া টিপুর পিয়ন ইমরান হোসেনের বিরুদ্ধে ঢাকায় ফ্ল্যাট, গাড়ি এবং ব্যাংকে কোটি টাকার সম্পদের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এমপির এপিএস পরিচয় ব্যবহার করে গভীর নলকূপ, টিআর, কাবিখা ও কাবিটা বরাদ্দ দেওয়ার কথা বলে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

অভিযুক্ত ইমরান হোসেন বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের চরউত্তর গ্রামের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের নেছার হাওলাদারের ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বরিশাল-৩ আসনের এমপি গোলাম কিবরিয়া টিপুর ঢাকার অফিসে পিয়ন হিসেবে কর্মরত।

সরকারি সুবিধা আত্মসাৎ ও অনিয়মের অভিযোগ

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইমরানের বিরুদ্ধে গরিবদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি ঘর নিজের গরুর গোয়ালঘর হিসেবে ব্যবহার, রাস্তার জন্য বরাদ্দকৃত স্ট্রিট লাইট নিজের গোয়ালঘরের পাশে স্থাপন, পরিবারের সদস্যদের নামে সরকারি বরাদ্দ নেওয়া এবং প্রকল্পের কাজ না করেই টাকা আত্মসাতের মতো একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া কৃষি অফিস থেকে মাড়াই যন্ত্র, পাওয়ার টিলারসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

আরও অভিযোগ রয়েছে, বিগত সংসদের সময় মুলাদী ও বাবুগঞ্জ উপজেলার কয়েক শত মানুষের কাছ থেকে গভীর নলকূপ দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে জনপ্রতি ২৫ হাজার টাকা করে আদায় করা হয়েছে।

কাবিখা–টিআর প্রকল্পে অনিয়ম

স্থানীয়রা জানান, ২০২৪ সালের ১৪ মার্চ কাবিখা ও টিআর প্রকল্পের আওতায় বাবুগঞ্জ উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের চরহোগলপাতিয়া কবরস্থানে মাটি ভরাটের কথা দেখিয়ে ১ লাখ ৪ হাজার টাকা বরাদ্দ নেন ইমরান। একই প্রকল্পে গত ১৮ মে আরও ৩ লাখ টাকা বরাদ্দ নেওয়া হলেও বাস্তবে কোনো কাজ হয়নি বলে অভিযোগ। বরাদ্দের পুরো অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি।

কোটি টাকার সম্পদ ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ

অভিযোগ অনুযায়ী, এমপির অফিসের পিয়নের চাকরি করেই ইমরান ঢাকায় কোটি টাকার বেশি মূল্যের ফ্ল্যাট কিনেছেন, গাড়ির মালিক হয়েছেন এবং ব্যাংকে রয়েছে বিপুল অঙ্কের টাকা। এমপির এপিএস পরিচয়ে তিনি এক চিকিৎসকের মেয়েকে বিয়েও করেছেন বলে জানা গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জাতীয় পার্টির এক নেতা বলেন, বাবুগঞ্জ ও মুলাদী উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে ইমরান একজন করে দালাল নিয়োগ করেছেন। তাদের মাধ্যমে টিআর, কাবিখা, কাবিটা ও নলকূপের নামে টাকা সংগ্রহ করা হয়। বরাদ্দ তালিকায় তার সুপারিশপ্রাপ্তদের নামই বেশি থাকে।

ডিও লেটার ও পরিবারের নামে বরাদ্দ

চলতি বছরের ২৪ এপ্রিল এমপি গোলাম কিবরিয়া টিপুর একটি ডিও লেটারে বাবুগঞ্জ উপজেলায় গরিবদের জন্য ঐচ্ছিক তহবিল থেকে ৭৫ হাজার টাকার বরাদ্দের তালিকায় ইমরানের মা, বাবা, ভাই ও ভাগিনার নামে ৪০ হাজার টাকা বরাদ্দের তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া ৬ মে ও ২৬ মে তারিখের দুটি ডিও লেটারে ৫০ বান টিন বরাদ্দের আবেদনে ইমরানের পরিবারের পাঁচ সদস্যের নামে ১৮ বান টিনের নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কৃষি অফিসের মাড়াই মেশিন, পাম্প ও ট্রাক্টর বরাদ্দের বড় অংশও তার মাধ্যমে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।

কর্মকর্তাদের বক্তব্য

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাবুগঞ্জ উপজেলার এক সরকারি কর্মকর্তা বলেন, “এমপি সৎ মানুষ। কিন্তু তার অফিসের পিয়ন ইমরান প্রায়ই এমপির নাম ব্যবহার করে ফোনে সুপারিশ করেন। তার বাবা ও ভাইয়ের নামে বরাদ্দ পাওয়া টিআর-কাবিখার কাজ না করেই বিল তুলতে আসেন। না দিলে এমপি মহোদয়ের ভয় দেখান।”

বিষয়টি সম্পর্কে বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, “আমার বাবা মারা গেছেন। ইমরানের বিষয়ে পরে কথা বলবো।”
এমপি গোলাম কিবরিয়া টিপুর এপিএস ফয়জুল ইসলাম বলেন, “আমি নতুন যোগদান করেছি। ইমরানের বিষয়ে কিছু বলতে পারবো না।”

অভিযুক্তের দাবি

সব অভিযোগ অস্বীকার করে ইমরান হোসেন নিজেকে এপিএস দাবি করে বলেন, “গভীর নলকূপ, টিআর, কাবিখা বা কাবিটা দেওয়ার কথা বলে কোনো টাকা নিইনি। আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে।”

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

আজ মহান বিজয় দিবস

0

আজ মহান বিজয় দিবস—বাঙালি জাতির ইতিহাসে সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল, অহংকারের ও আবেগঘন দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের অবসান ঘটে। বিশ্বের মানচিত্রে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে চিরস্থায়ীভাবে স্থান করে নেয় বাংলাদেশ। কুয়াশাচ্ছন্ন ডিসেম্বরের সকালে সেদিন উদিত হয়েছিল স্বাধীনতার সূর্য, উড়েছিল চিরগৌরবের লাল-সবুজ পতাকা, আর বিজয়ের আনন্দে মুখর হয়েছিল পুরো দেশ।

২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বর গণহত্যার মধ্য দিয়ে শুরু হয় মহান মুক্তিযুদ্ধ। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে স্বাধীনতার চূড়ান্ত সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে বাঙালি জাতি। একই সময়ে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে মেজর জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেন। শুরু হয় সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক অধ্যায়। ৩০ লাখ শহীদের রক্ত, দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রম আর অগণিত মানুষের ত্যাগের বিনিময়ে ১৬ ডিসেম্বর ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তানি বাহিনীর কমান্ডার জেনারেল নিয়াজি ৯৩ হাজার সৈন্যসহ যৌথ বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়।

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রীয়ভাবে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। প্রত্যুষে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসটির সূচনা হয়। সূর্যোদয়ের পর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে বীরশ্রেষ্ঠ পরিবার, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিদেশি কূটনীতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের মানুষ শহীদদের স্মরণে শ্রদ্ধা জানান।

দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, প্রধান উপদেষ্টা এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান পৃথক বাণী দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে গণতন্ত্র, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, এবারের বিজয় দিবস হোক জাতীয় জীবনে নতুন করে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার দিন এবং জনগণের প্রকৃত ক্ষমতায়নের পথে এগিয়ে যাওয়ার শপথ নেওয়ার উপলক্ষ।

বিজয় দিবস ঘিরে রাজধানীসহ সারাদেশে সরকারি-বেসরকারি ভবন, সড়কদ্বীপ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় করা হয়েছে বর্ণাঢ্য আলোকসজ্জা। সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়েছে বিশেষ ক্রোড়পত্র, টেলিভিশন ও বেতারে প্রচারিত হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিশেষ অনুষ্ঠানমালা। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, বাংলা একাডেমি, জাতীয় জাদুঘর, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান আয়োজন করেছে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শিশুদের চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতা।

মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও প্যাগোডাসহ সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনায় বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে। এতিমখানা, হাসপাতাল, জেলখানা ও সমাজসেবামূলক প্রতিষ্ঠানে পরিবেশন করা হচ্ছে উন্নতমানের খাবার। বিদেশে বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনগুলোও যথাযোগ্য মর্যাদায় বিজয় দিবস পালন করছে।

আজ সরকারি ছুটি। ঘরে ঘরে, অফিস-আদালত, যানবাহন ও সড়কের মোড়ে মোড়ে উড়ছে লাল-সবুজ পতাকা। মুক্তির গান আর বিজয়ের উল্লাসে মুখর পুরো দেশ। গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতায় জাতি আজ স্মরণ করছে সেইসব বীর সন্তানদের—যাদের আত্মত্যাগে অর্জিত হয়েছে আমাদের প্রিয় স্বাধীনতা।

মহান বিজয় দিবসে জাতীয় স্মৃতিসৌধে মানুষের ঢল

0

 

ডেইলী বরিশাল রিপোর্টঃ
ঢাকা, ১ পৌষ (১৬ ডিসেম্বর): মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাতে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে নেমেছে সর্বস্তরের মানুষের ঢল।

মঙ্গলবার ভোর থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষ স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে সমবেত হতে থাকেন। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন সম্পন্ন করার পর সাধারণ মানুষের জন্য স্মৃতিসৌধ উন্মুক্ত করা হয়। এরপরই বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় ফুল, ব্যানার ও ফেস্টুন হাতে শিক্ষার্থী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, মুক্তিযোদ্ধা এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যরা একে একে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। বীর শহীদদের বেদী ফুলে ফুলে ভরে ওঠে।

বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণ আনন্দ, আবেগ ও দেশপ্রেমে ভরে ওঠে। শিশুদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো—কারও মুখে ও হাতে জাতীয় পতাকার রঙ, কেউ আঁকছে স্মৃতিসৌধের ছবি। শীত উপেক্ষা করে যুদ্ধাহত ও প্রবীণ বীর মুক্তিযোদ্ধারাও লাল-সবুজের পোশাক ও জাতীয় পতাকা হাতে এসে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। অনেকেই তাঁদের সালাম জানাতে ও কুশল বিনিময়ে এগিয়ে আসেন।

সার্বিকভাবে কঠোর নিরাপত্তা ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে দিনভর এই কর্মসূচির মাধ্যমে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের স্মরণে শ্রদ্ধা, গর্ব ও ঐক্যের এক অনন্য দৃশ্যপট ফুটে ওঠে।

বাবুগঞ্জে জমিতে গরু বাঁধাকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ একই পরিবারের ৩ জন গুরুতর আহত

স্টাফ রিপোর্টার :

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় জমিতে গরু বাঁধাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় নারীসহ একই পরিবারের তিনজন গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

ঘটনাটি ঘটেছে বাবুগঞ্জ উপজেলার চরহোগলপাতিয়া গ্রামে। স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গতকাল ওই গ্রামের বাসিন্দা মো. সানাউল হাওলাদার ও তার পিতা আব্দুল মালেক হাওলাদারের সঙ্গে প্রতিবেশী জুবায়ের, রোমান, জহিরুল ও রাশেদের জমিতে গরু বাঁধা নিয়ে কথা কাটাকাটি শুরু হয়।

একপর্যায়ে অভিযুক্তরা অকথ্য ও অশ্লীল ভাষায় গালাগালি করতে থাকলে সানাউল ও তার পিতা এর প্রতিবাদ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র ও ধারালো চাপাতি নিয়ে সানাউল হাওলাদার ও তার পিতা আব্দুল মালেক হাওলাদারের ওপর হামলা চালায়।

হামলায় সানাউল হাওলাদার ও আব্দুল মালেক হাওলাদার গুরুতরভাবে আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এ সময় সানাউলের স্ত্রী মৌসুমি তাদের রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তাকেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়।

পরে স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত সরকারি গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক এবং তারা সবাই বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আহত সানাউল হাওলাদার জানান, “আমাদের ওপর পূর্বপরিকল্পিতভাবে হামলা করা হয়েছে। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে বাবুগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বাবুগঞ্জ থানার একটি সূত্র জানায়, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ঘটনার পর চরহোগলপাতিয়া গ্রামে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় নজরদারি বাড়িয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

বরিশাল-১ আসনে প্রার্থী পরিবর্তনের দাবি তৃণমূলর

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) জাতীয় সংসদ আসনে বিএনপি’র প্রাথমিক মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ঘোষিত জহির উদ্দিন স্বপনের পরিবর্তে ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবাহানকে মনোনয়ন দেওয়ার দাবি স্থানীয় তৃণমূলের নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপকভাবে জোরালো হয়ে উঠেছে। সোমবার গৌরনদী ও আগৈলঝাড়ায় বিএনপি এবং অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীরা সাংবাদিক সম্মেলন, মানববন্ধন ও জনসভা করে প্রার্থী পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে বলেন— ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবাহানই এই আসনের “যোগ্য, পরিচ্ছন্ন ও গ্রহণযোগ্য” প্রার্থী।ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবাহানের জনপ্রিয়তার কারণ তৃণমূলের দাবি—ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবাহান কখনোই চাঁদাবাজি বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে প্রশ্রয় দেননি। ১/১১ এর কঠিন সময়ে তিনি তৃণমূল নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়িয়ে আন্দোলন-সংগ্রাম পরিচালনা করেছেন। জুলুম-নির্যাতনের সময় যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন, তাদের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন। দলের প্রতি তার অবিচল নিষ্ঠা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও দীর্ঘদিনের ত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবে ২০০৮ সালে বেগম খালেদা জিয়া তাকে বিএনপি’র মনোনয়ন দিয়েছিলেন। তৃণমূল নেতারা বলেন— দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আস্থাভাজন একজন নিবেদিতপ্রাণ সংগঠক হিসেবে আব্দুস সোবাহানই উপযুক্ত প্রার্থী। জহির উদ্দিন স্বপনকে নিয়ে ক্ষোভ স্থানীয় নেতাকর্মীদের অভিযোগ—জহির উদ্দিন স্বপন দীর্ঘ ১২ বছর দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে ছিলেন।টেলিভিশনের এক সাক্ষাৎকারে তিনি নিজেকে ‘বিএনপি সংসদ সদস্য’ পরিচয় দিতে লজ্জা লাগে—এমন মন্তব্য করে নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তুষ্টি সৃষ্টি করেন। দলের মধ্যে সংস্কারপন্থী হিসেবে পরিচিত হওয়ায় তৃণমূলের বড় অংশ তাকে গ্রহণযোগ্য মনে করছে না। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের তীব্র প্রতিবাদ আগৈলঝাড়া উপজেলার হিন্দু ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ও মানববন্ধন করে জহির উদ্দিন স্বপনের মনোনয়ন বাতিলের দাবি জানান। তাদের অভিযোগ—২০০১ সালে জহির উদ্দিন স্বপনের নেতৃত্বে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর ব্যাপক নির্যাতন হয়েছিল, যার কারণে শতাধিক পরিবার প্রাণভয়ে গোপালগঞ্জের রামশীল এলাকায় পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছিল। তারা জানান, “আমরা কোনোভাবেই তাকে মেনে নিতে পারি না; আমাদের দাবি— ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবাহানকে ধানের শীষ প্রতীক দেওয়া হোক।”তৃণমূলে একটাই সুর — “সোবাহানই গ্রহণযোগ্য প্রার্থী”সারা গৌরনদী-আগৈলঝাড়া জুড়ে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের একই দাবি—“পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি, ত্যাগ, সততা ও জনগণের আস্থার প্রতীক ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবাহানকে মনোনয়ন দেওয়া হোক।”স্থানীয় তৃনমূল  জনগণ মনে করেন বরিশাল-১ আসনে বিএনপি যদি সংগঠনের ভিত শক্ত রাখতে ও জয়লাভ করতে চায়, তবে জনস্বীকৃত ও ত্যাগী নেতা ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবাহানকেই প্রার্থী করা উচিত।

বেগম খালেদা জিয়া

0

জন্ম ১৯৪৫ সালে।
১৯৬০ সালে দিনাজপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিকুলেশন পাশ করেন এবং ১৫ বছর বয়সে বিয়ে করেন।

১৯৬৫ সাল বিয়ের পাঁচ বছরের মাথায় স্বামী জিয়াউর রহমানকে যেতে হয়েছিল ভারত পাকিস্থান যুদ্ধে।যেখানে মৃত্যু সবসময় হাতছানি দিত।একই বছর জন্ম নেয় বড় সন্তান।১৯৬৯ সালে জন্ম নেন ছোট সন্তান।

৭১ সালে বেগম জিয়ার বয়স তখন মাত্র ২৬, বড় সন্তানের বয়স ০৬, ছোট সন্তানের বয়স ০২। আবারো যুদ্ধ। এবারের যুদ্ধে তার স্বামী ৬৫ সালের মত একজন পেশাদার সামরিক কর্মকর্তা নন, এবারের যুদ্ধে তিনি ছিলেন একজন বিদ্রোহী সামরিক কর্মকর্তা। একদমই ভিন্ন।

পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর হাতে বন্দি হন দুই সন্তান সহ। ০৭ মাস বন্দি থাকেন।

৭৫ সালে বয়স ৩০। নিজ দেশে একটা সামরিক ক্যুর মুখোমুখি হন।এবারও মৃত্যুর হাতছানি।মৃত্যু থেকে বেঁচে ফিরলেন।কিন্তু স্বামীকে ছেড়ে দিত হয় দেশের জন্য। ৮১ তে স্বামীর মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মোটামুটি সামরিক বাহিনীতে ২১ (সম্ভবত) টার মত ক্যু হয়। মানে ২১ বার সরাসরি মৃত্যুর মুখোমুখি হওয়া।

চূড়ান্তভাবে ৩৬ বছর বয়সে স্বামীকে হারান। বড় ছেলে ১৬ এবং ছোট ছেলের বয়স তখন ১২।

৮২ সালে বয়স তখন ৩৭। একটা সামরিক স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে তাকে ঘর ছেড়ে রাস্তায় আনা হল। টানা ১০ বছর সংগ্রাম করলেন আপোষহীনভাবে। কোন প্রলোভন তাকে দমাতে পারে নাই। এই ১০ বছরেও হত্যার মুখোমুখি হয়েছিলেন, কারাবন্দী হয়েছিলেন।

৯১ সাল। ৪৬ বছর বয়সে হন দেশের প্রধানমন্ত্রী। ৫ বছরে বিরোধী দলের অপরাজনীতিকে মোকাবেলা করে দেশকে গড়েছেন।

এরপর আসল ১/১১। এবার শয়তানদের টার্গেট দুই সন্তানকে জিম্মি করে তাকে পঙ্গু করে দেয়া। কিন্তু তিনি যতটা না দুই সন্তানের মা, তার চেয়েও বড় তিনি দেশটাকে বেশি ভালোবেসে ফেলেছিলেন। আপন সন্তানকে কুরবানি দিয়ে দেশ নিয়ে পড়ে ছিলেন। তাই ১/১১ সফল হয় নাই। দেশটাও বেঁচে গিয়েছিল।

তারপর দেশ হয়ত কিছুটা ১/১১ এর অসৎ পরিকল্পনা থেকে মুক্তি পেল কিন্তু দেশ পড়ে গেল প্ল্যান ‘বি’ এর ক্ষপ্পরে। ১/১১ এর পরিকল্পনায় তিনি পরোক্ষভাবে সন্তান হারা হয়েছিলেন। আর ৭০ বছর বয়সে এসে টকবগে ছোট সন্তানকে চূড়ান্তভাবে হারান। যখন তিনি সরকারের টার্গেট কিলিং মিশনে ছিলেন। নিজের কার্যালয়ে তাকে বন্দি করা হয়। তিনি এই বন্দি অবস্থাতেই অঝোর ধারায় কেঁদে সন্তানের লাশ গ্রহণ করে চিরতরে বিদায় জানান। কিন্তু আপোষ করেন নাই।

৭৩ বছর বয়সে তাকে জেলে বন্দি করা হয়। একটা পরিত্যাক্ত জেলে। যেখানে তিনিই একমাত্র বন্দি। সেখানে প্লাস্টার ভেঙ্গে ভেঙ্গে পড়ত। চিকিৎসা দেয়া হত না। উপরে যে রুমে তাকে রাখা হত তার নিচেই তার জন্য আদালত বসানো হত একটা মানসিক চাপ দেয়ার জন্য। এভাবে ৬ বছর বন্দি থাকার পর ৭৯ বছর বয়সে আল্লাহ্ তাকে সেখান থেকে মুক্ত আকাশে আসার সুযোগ দেন।

এই ৬ বছরে চেষ্টা করা হয় তাকে চূড়ান্তভাবে শেষ করে দেয়ার জন্য।

তার এই বর্তমান ৮০ বছর বয়সে আমার মনে হয় সর্বোচ্চ জীবনের প্রথম ২০ বছর একটা হাসিখুশি জীবন যাপন করার সুযোগ পেয়েছিলেন। আর বাকি ৬০ বছর গেছে চরম দূর্দিনের মধ্য দিয়ে।

“মহান সৃষ্টিকর্তা যেন বেগম খালেদা জিয়াকে সুস্থ সুন্দর রাখেন। সম্মান বাড়িয়ে দেন”।

❤️