ঘুরছে মাটির চাকা, কাদার তাল নিমিষেই রূপ নিচ্ছে হাঁড়ি, পাতিল, সানকি কিংবা কলসিতে। কিন্তু যে হাতের ছোঁয়ায় মাটির তাল রূপ পায় অনিন্দ্যসুন্দর পাত্রে, সেই হাতে এখন আর আগের মতো স্বচ্ছলতার দেখা নেই। কুমারপাড়ার চাকা ঘুরলেও শিল্পীদের জীবনের চাকা যেন থমকে গেছে।
একসময় গ্রামবাংলায় গৃহস্থালির প্রতিটি কাজে মাটির পাত্র ছিল অপরিহার্য। পূজা-পার্বণ কিংবা বৈশাখী মেলায় মাটির খেলনা ও তৈজসপত্রের ছিল জমজমাট কদর। কিন্তু আধুনিক প্লাস্টিক সামগ্রীর সস্তা দাম ও দীর্ঘস্থায়িত্ব মৃৎশিল্পকে কঠিন প্রতিযোগিতার মুখে ঠেলে দিয়েছে।
পালপাড়ার প্রবীণ কারিগররা জানান, মাটির দাম বৃদ্ধি ও পোড়ানোর জ্বালানি কাঠের অভাবের কারণে লাভ এখন সামান্য। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও আধুনিক নকশার প্রশিক্ষণ না পেলে এই প্রাচীন লোকশিল্প চিরতরে হারিয়ে যাবে বলে তাদের আশঙ্কা।


