শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬
২৪শে আশ্বিন, ১৪৩৩

ডেইলি বরিশাল

দক্ষিণাঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় ও বস্তুনিষ্ঠ দৈনিক পত্রিকা

ধর্ম ও জীবন

দেশে ফেরা নারী শ্রমিকদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকটে নিমজ্জিত

বিদেশে নির্যাতনের পর দেশে ফেরা নারী শ্রমিকরা সামাজিক stigma ও অর্থনৈতিক সংকটের মুখে পড়ছেন। তাদের জন্য থাকা নীতিমালা বাস্তবায়নের অভাবে তারা মানসিক বিপর্যয় ও পরিবার-সমাজের অবহেলার শিকার হচ্ছেন।

ন
নাজমুল ইসলাম· বিশ্লেষক
প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ৯:৫৩ এএমসর্বশেষ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ৯:৫৩ এএম
দেশে ফেরা নারী শ্রমিকদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকটে নিমজ্জিত

প্রবাসে নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশে ফেরা নারী শ্রমিকরা পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীর সন্দেহ, কটূক্তি ও নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে মারাত্মক মানসিক বিপর্যয়ে দিন কাটাচ্ছেন। শূন্য হাতে দেশে ফেরার পর তাদের নতুন করে সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা করতে হচ্ছে, যা তাদের জীবনে আরও একটি বিপর্যয় ডেকে আনছে।

রনি বেগম (নরসিংদী) জানান, সৌদি আরবে কাজ না মিললে ও প্রতারণার শিকার হয়ে প্রায় দেড় মাস বন্দি থাকার পর তাকে দেশে ফিরতে হয়। দেশে আসার পর পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন কিংবা প্রতিবেশীরা বিদেশযাত্রা ও ফিরে আসার কারণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, ফলে প্রয়োজনীয় সহমর্মিতা ও মানসিক সমর্থনের বদলে অপমান ও অবিশ্বাসের মুখে পড়তে হয়। সুমি বেগম (সাতক্ষীরা) বলেছেন, বিদেশে কাজের সময় বেতন আটকে রাখা হয়, মুক্তি পেতে অনেক কান্নাকাটি করতে হয়। দেশে আসার পর প্রতিবেশীরা ভিন্নদৃষ্টিতে দেখেন, তার অপরাধ বুঝতে পারছেন না। দিরাই উপজেলার তাহিরুন্নেসা (সুনামগঞ্জ) বলেন, স্বামীর দুর্ঘটনার পর সৌদি আরবে গৃহপরিচারিকার কাজে যান, সেখানে নির্যাতন সহ্য করে দেশে ফিরতে হয়। ফিরে আসার পর আত্মীয়স্বজনরা তার থেকে দূরে থাকেন, কোনো সামাজিক অনুষ্ঠানে দাওয়াত দেন না।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের আরিফুল হক চৌধুরী জানান, প্রত্যাগত নারী শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে, বিশেষ করে বিধবা ও আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী নয় এমনদের স্বাবলম্বী করার জন্য ডিসেম্বরের মধ্যেই ভালো কিছু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) পরিচালক (প্রশাসন) নাজমুল ইসলাম সরকার তালিকা না থাকার কথা জানান, সিস্টেম অ্যানালিস্ট আবু রায়হানও প্রত্যাগত নারী কর্মীদের তালিকা এন্ট্রি নেই বলে জানান। অভিবাসন বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনীর বলেন, বিদেশফেরত নারী শ্রমিকদের পুনর্বাসন বলতে শুধু আর্থিক সহায়তা বা প্রশিক্ষণ বোঝালে চলবে না, তাদের সামাজিক মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়টিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, কাউন্সেলিংয়ের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদেরও সচেতন করতে হবে।

'প্রত্যাগত অভিবাসীকর্মী পুনঃএকত্রীকরণ নীতি, ২০২৫' নীতিমালায় উল্লেখ আছে, প্রত্যাগত অভিবাসী কর্মীদের যৌক্তিক সামাজিক ও অর্থনৈতিক অধিকার সমুন্নত এবং সুরক্ষিতকরণ নিশ্চিত করতে হবে, জেন্ডার সমতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অভিবাসী নারী কর্মীকে বৈষম্যহীন ও সমান সুযোগ প্রদান নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়াও অভিবাসনজনিত সামাজিক সমস্যা, নেতিবাচক ধারণা ও মনোভাব দূর করতে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। বিএমইটি-র তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-এর জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের অক্টোবরের ১০ তারিখ পর্যন্ত এক লাখ ৭২ হাজার ২০৮ জন নারী শ্রমিক বিদেশে গেছেন, যার মধ্যে সৌদি আরবে গেছেন এক লাখ ১৮ হাজার ২৮ জন, জর্ডান গেছেন ৩৭ হাজার ২৮৭ জন, কাতারে ৫,৮৯৯ জন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২,৪৮১ জন, লেবানন ১,১৩০ জন ও কুয়েতে গেছেন ১,১৩০ জন নারী শ্রমিক।

বিশেষজ্ঞরা এবং মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলছেন, প্রত্যাগত নারী শ্রমিকদের জন্য প্রচার ও সামাজিক উদ্যোগ প্রয়োজন, নীতিমালা বাস্তবায়নে আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় দরকার, এবং কতজন প্রত্যাগত হয়েছেন, এর তালিকা অবশ্যই থাকা উচিত। বিশেষ করে যেসব নারী শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশে ফেরেন, তাদের পরিচয় ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার গোপনীয়তা রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। ডেইলি বরিশাল-কে জানান, এ বিষয়ে আরও তথ্য ও বিশ্লেষণ পাওয়া যাবে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনে।

📢এই সংবাদটি শেয়ার করুন

📢 আপনিও হোন পাঠক সাংবাদিক!

আপনার এলাকার যেকোনো খবর, সমস্যা বা ভিডিও সরাসরি আমাদের নিউজ পোর্টালে জমা দিন

সংবাদ পাঠান ↗
ন

নাজমুল ইসলাম

বিশ্লেষক

রাজনৈতিক রিপোর্টার, বিশ্লেষক ও কলামিস্ট।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ