বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬
২১শে আশ্বিন, ১৪৩৩

ডেইলি বরিশাল

দক্ষিণাঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় ও বস্তুনিষ্ঠ দৈনিক পত্রিকা

আন্তর্জাতিক

বিশাল স্টেডিয়ামে কোরআনের হাজারো হাফেজ-হাফেজাকে সম্মাননা

সিরিয়ার লাতাকিয়া প্রদেশে পবিত্র কোরআনের এক হাজার হাফেজ ও হাফেজাকে বিশেষ সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। দেশটির আওকাফ মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় লাতাকিয়া আওকাফ অধিদপ্তর ও ‘উম্মাহর জন্য’ নামে একটি সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে শনিবার লাতাকিয়া পৌর স্টেডিয়ামে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

ফ
ফাতেমা খানম· আন্তর্জাতিক সংবাদদাতা
প্রকাশ: ৬ অক্টোবর ২০২৬, ৭:৪৬ পিএমসর্বশেষ: ৬ অক্টোবর ২০২৬, ৭:৪৬ পিএম
বিশাল স্টেডিয়ামে কোরআনের হাজারো হাফেজ-হাফেজাকে সম্মাননা

সিরিয়ার আওকাফ মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় লাতাকিয়া আওকাফ অধিদপ্তর ও ‘উম্মাহর জন্য’ নামে একটি সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে শনিবার ৫ সেপ্টেম্বর লাতাকিয়া পৌর স্টেডিয়ামে পবিত্র কোরআনের এক হাজার হাফেজ ও হাফেজাকে বিশেষ সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিরিয়ার আওকাফমন্ত্রী ড. মুহাম্মদ আবু আল-খাইর শুকরি। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন লাতাকিয়ার গভর্নর আহমদ মুস্তফা, আলেপ্পোর মুফতি ও সর্বোচ্চ ফতোয়া পরিষদের সদস্য ড. ইবরাহিম শাশু এবং ধর্মীয় ও সামাজিক অঙ্গনের বিভিন্ন ব্যক্তিত্ব। সংবর্ধিত হাফেজ-হাফেজাদের পরিবারের সদস্যরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে কোরআন মুখস্থ করা শিশু, তরুণ এবং বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ হাফেজ-হাফেজারা অংশ নেন। লাতাকিয়ার আওকাফ অধিদপ্তরের পরিচালক খালিদ আমর জানান, পবিত্র কোরআন হিফজে তাদের দীর্ঘ পরিশ্রম ও ত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবে এ সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। সংবর্ধিতদের কেউ মসজিদ ও কোরআন শিক্ষার বিভিন্ন হালয়া থেকে হিফজ সম্পন্ন করেছেন। আবার কেউ শরণার্থী শিবির কিংবা প্রবাসে থেকেও পবিত্র কোরআন মুখস্থ করেছেন। এমনকি কয়েকজন প্রবীণ ব্যক্তিও এ তালিকায় রয়েছেন, যারা নীরবে নিজেদের হিফজের যাত্রা সম্পন্ন করেছেন।

ফাতিমা আহমদ বায়াজিদ, যিনি ইসলামি শিক্ষায় ডক্টরেটধারী, বলেন, এ সম্মাননা তাঁর জন্য ‘বর্ণনাতীত আনন্দের’। তিনি ১৯৯৪ সালে পবিত্র কোরআন হিফজ সম্পন্ন করেন এবং ২০২০ সালে কিরাআতে আশারায়ে কুবরা সম্পন্ন করেন। ফাতিমা আহমদ বায়াজিদ কোরআন শেখা ও শিক্ষা দেওয়াকে সমাজের উন্নতি ও সফলতার অন্যতম পথ হিসেবে উল্লেখ করেন, নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও কোরআনের সঙ্গে সম্পর্ক ধরে রাখার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে।

অন্য এক সংবর্ধিত ব্যক্তি বাশার আবদুল্লাহ খারবুতলি কোরআন হিফজ ও শিক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য তরুণদের প্রতি আহ্বান জানান। সিরিয়ার শহীদদের স্মরণ করে তিনি তরুণ প্রজন্মকে পবিত্র কোরআন ও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ আঁকড়ে ধরে জীবন পরিচালনার আহ্বান জানান।

আয়োজকেরা জানান, এ সংবর্ধনার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো পবিত্র কোরআন হিফজ ও শিক্ষায় উৎসাহিত করা এবং নতুন প্রজন্মকে কোরআন, জ্ঞান ও উত্তম চরিত্রের দিকে আকৃষ্ট করা। একই সঙ্গে হাফেজ-হাফেজা, তাদের পরিবার এবং কোরআন শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত শিক্ষকদের প্রচেষ্টার স্বীকৃতি দেওয়াও এ আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য। এর আগে সিরিয়ার দ্বিতীয় বৃহৎ কোরআন প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বের পরীক্ষাও অনুষ্ঠিত হয়। গত ২৩ আগস্ট দামেস্কের উমাইয়া মসজিদ ও ইমান মসজিদে অনুষ্ঠিত এ পরীক্ষায় দেশের বিভিন্ন প্রদেশ থেকে বাছাই হওয়া ২২৩ জন প্রতিযোগী অংশ নেন।

কোরআন হিফজ ও শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বাড়াতে দেশটিতে এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

📢এই সংবাদটি শেয়ার করুন

📢 আপনিও হোন পাঠক সাংবাদিক!

আপনার এলাকার যেকোনো খবর, সমস্যা বা ভিডিও সরাসরি আমাদের নিউজ পোর্টালে জমা দিন

সংবাদ পাঠান ↗
ফ

ফাতেমা খানম

আন্তর্জাতিক সংবাদদাতা

আন্তর্জাতিক বিভাগের প্রধান সংবাদদাতা।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ