সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় সাত বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির বাড়িতে। এ ঘটনায় ওই নেতার শ্যালক মোশাররফ হোসেনের (৬০) বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মঙ্গলবার সকালে শিশুটিকে উদ্ধার করে চিকিৎসা ও ডাক্তারি (মেডিকেল) পরীক্ষার জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে পুলিশ।
পরিবারের অভিযোগ, গত শনিবার বিকালে সদর উপজেলার ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়নের ওয়ারিয়া গ্রামে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলামের বাড়ির ছাদে ডেকে নিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণ করেন মোশাররফ হোসেন।
শিশুটির দাদির অভিযোগ, ঘটনার পর সাবেক চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামকে বিষয়টি জানানো হলেও তারা কোনো প্রতিকার পাননি। পরে পুলিশকে বিষয়টি জানালে তারা শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
শিশুটির বাবা প্রবাসে থাকেন এবং তার মা অন্যত্র সংসার গড়েছেন। ফলে শিশুটি ওয়ারিয়া গ্রামে দাদির কাছেই বড় হচ্ছে।
ঘটনার বিষয়ে ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ইদ্রিস আলী বলেন, বিষয়টি আমিও শুনেছি। পরে সাবেক চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামের সঙ্গে দেখা হলে এ বিষয়ে জানতে চেয়েছিলাম। তবে তিনি এ বিষয়ে কোনো সদুত্তর না দিয়েই চলে যান।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম বলেন, তিনিও ঘটনাটি শুনেছেন। তার বাড়ির চারপাশে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো রয়েছে। সেগুলো পরীক্ষা করলেই প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে। তার শ্যালক প্রকৃত অপরাধী হলে তারও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন।
তবে তার দাবি, আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষ রাজনৈতিকভাবে তাকে ঘায়েল করতে এ নিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সার্বিক খোঁজখবর নিয়েছে। শিশুটিকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও মেডিকেল পরীক্ষার জন্য সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্ত মোশাররফ হোসেনকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।



