আজকের যুগে 'ব্যস্ত থাকা' কেবল একটি অবস্থা নয়, এটি এক ধরনের পরিচয়বোধ। যে-ই হোক — ছাত্র, কর্মচারী, উদ্যোক্তা বা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক — সবাই একে একে বলতে ভালোবায় যে তারা ব্যস্ত। কেউ কেউ এই 'ব্যস্ততা'কে গর্বের বিষয়বস্তু হিসেবে গ্রহণ করেন, যেন তা তার সময়সীমার প্রমাণ। কিন্তু একবার চিন্তা করুন — এই ব্যস্ততা আসলে উৎপাদনশীল কিনা, নাকি শুধু একটি মানসিক রপ্তানি?
সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, আধুনিক মানুষের ব্যস্ততা প্রায়ই ভ্রান্তির শিকার। আমরা ইমেল চেক করি, সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রল করি, একসাথে একাধিক কাজ চালিয়ে নিই — এর সব কিছুকে 'ব্যস্ততা' বলে দিই। কিন্তু গবেষকরা বলেন, মস্তিষ্ক যখন বিভিন্ন কাজে বিভক্ত থাকে, তখন আসলে কোনো একটি কাজে গভীরভাবে নিমগ্ন হয় না, তাই উৎপাদনশীলতা হ্রাস পায়। পর্যায়ক্রমে কাজ করার পরিবর্তে বহুমুখী ব্যস্ততা মানুষকে ক্লান্ত ও উদ্বিগ্ন করে তোলে।
প্রকৃত ব্যস্ততা মানে নিজের সময় যথাযথভাবে ব্যবহার করা। একজন ব্যক্তি যখন জানেন তার অগ্রাধিকার কোন দিকে, তখন সে ব্যস্ত থাকা নয়, বরং সময় বিনিয়োগ করে। অনেকে দিনজরায় হাজারো বার মোবাইলের স্ক্রিনে তাকান, কিন্তু সন্ধ্যায় মনে করেন কিছুই হয়নি। এখানে সমস্যা নয় সময়ের অভাব — সমস্যা হলো মনোযোগের অভাব। মনোযোগ যখন ছড়িয়ে থাকে, তখন প্রতিটি কাজই অর্ধেক হয়ে যায়।
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, প্রতিদিন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজকে অগ্রাধিকার দিন এবং বাকি সবকিছুর জন্য সময় নির্ধারণ করুন। 'ব্যস্ত থাকা' থেকে 'বুদ্ধিমানভাবে কাজ করা'-র দিকে এগিয়ে আসতে হলে হয়তো প্রথমেই নিজেকে স্বীকার করতে হবে যে সব কিছু ব্যস্ততার দাবি পূরণ করে না। শুধুমাত্র তখনই আমরা সত্যিকারের উৎপাদনশীলতায় পৌঁছাতে পারবো, যখন ব্যস্ততাকে কাজের সঙ্গে মানানসই করব, নয়া তাকে জীবনের রূপ হিসেবে গ্রহণ করব।



