ছাদে ফলগাছ লাগানোর সবচেয়ে আনন্দের মুহূর্ত কোনটি? গাছে ফুল আসা নয়, সম্ভবত নিজের হাতে লাগানো গাছ থেকে প্রথম ফলটি হাতে নেওয়া। তবে ফল ধরলেই সঙ্গে সঙ্গে ছিঁড়ে ফেললে হবে না। কোন ফল কখন সংগ্রহ করতে হবে, সেটিও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
লেবু গাছ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর অনুকূল পরিবেশে বছরের বিভিন্ন সময়ে ফুল ও ফল দিতে পারে। প্রয়োজন অনুযায়ী সবুজ অবস্থাতেও লেবু সংগ্রহ করা যায়। তবে বেশি রস ও পরিপক্ব স্বাদের জন্য ফল কিছুটা পরিণত হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা ভালো।
পেয়ারার জাত ও পরিবেশ অনুযায়ী ফলনকাল পরিবর্তিত হয়। সাধারণত ফলের গায়ে পরিপক্বতার লক্ষণ দেখা দিলে-সবুজের তীব্রতা কমে গিয়ে হালকা হলুদাভ বা পরিণত রং আসা, ফল সামান্য নরম হওয়া এবং স্বাভাবিক সুগন্ধ পাওয়া-সংগ্রহের উপযুক্ত সময় হতে পারে। একেবারে নরম হওয়ার আগেই সংগ্রহ করলে পরিবহন ও সংরক্ষণ সহজ হয়।
ডালিম পাকতে সময় নেয় এবং গাছভেদে সময়ের পার্থক্য হয়। ফলের রং, খোসার পরিবর্তন এবং পরিপক্বতার লক্ষণ দেখে সংগ্রহ করতে হয়। খুব কাঁচা অবস্থায় তুললে স্বাদ কম হতে পারে, আবার বেশি দেরি করলে ফল ফেটে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
ড্রাগন ফলের ক্ষেত্রে ফুল ফোটার পর সাধারণত কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ফল সংগ্রহযোগ্য হয়। ফলের বাইরের রং সবুজ থেকে উজ্জ্বল লাল/গোলাপি হওয়ার পর পরিপক্বতা আসে। অতিরিক্ত দেরি না করে উপযুক্ত রং ও পরিপক্বতা এলে ফল সংগ্রহ করা ভালো।
বাংলাদেশে ড্রাগন ফলের একাধিকবার ফলন পাওয়ার বাস্তব উদাহরণ রয়েছে; কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের একটি প্রতিবেদনে একজন চাষি বছরে প্রায় সাতবার ফল সংগ্রহের কথা জানিয়েছেন। তবে ছাদবাগানে ফলনের সংখ্যা জাত, বয়স, রোদ, পুষ্টি ও পরিচর্যার ওপর অনেকটাই নির্ভর করবে।
ছাদে আমের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো বামন বা উপযুক্ত কলমের জাত। গাছের আকার ছোট থাকলেও ভালো পরিচর্যায় ফল আসতে পারে। তবে চারা লাগানোর পর প্রথম বছরেই প্রচুর আম পাওয়ার আশা করা ঠিক নয়। জাত ও চারার বয়স অনুযায়ী ফল ধরতে সময় লাগে।
ছাদবাগানে একটি ভুল প্রত্যাশা হলো-আজ চারা লাগালাম, কয়েক মাস পর ঝুড়ি ভর্তি ফল। বাস্তবে কলমের পরিণত চারা হলে তুলনামূলক দ্রুত ফল আসতে পারে, কিন্তু বীজ থেকে তৈরি গাছে অনেক বেশি সময় লাগতে পারে। তাই ফলের গাছ কেনার সময় কলমের চারা নাকি বীজের চারা, জাতের নাম এবং চারার বয়স জেনে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
ফল সংগ্রহের সময় ধারালো ও পরিষ্কার কাঁচি ব্যবহার করুন। ডাল টেনে বা মোচড় দিয়ে ফল ছিঁড়লে গাছের ক্ষতি হতে পারে।
বৃষ্টির ঠিক পর ভেজা অবস্থায় ফল সংগ্রহ না করাই ভালো, বিশেষ করে সংরক্ষণ করতে চাইলে। সম্ভব হলে শুকনো সময়ে ফল তুলুন।
কীটনাশক ব্যবহার করা হয়ে থাকলে পণ্যের লেবেলে নির্ধারিত শেষ প্রয়োগের পর ফল সংগ্রহের নিরাপদ সময় বা ‘প্রি-হারভেস্ট ইন্টারভাল’ (PHI) অবশ্যই মেনে চলতে হবে। শুধু “পাতা ভালো দেখাচ্ছে” দেখে ফল খাওয়া নিরাপদ ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
ফলগাছ বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে টবের ওজন বাড়ে। ভেজা মাটি, বড় টব এবং পানি মিলে ওজন আরও বাড়িয়ে দেয়। তাই নিয়মিত পরীক্ষা করুন টব কোথায় রাখা হয়েছে এবং ছাদের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ঠিক আছে কি না। বড় গাছকে ঝড়ের সময় নিরাপদ রাখতে শক্ত খুঁটি বা উপযুক্ত সাপোর্ট ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে এমনভাবে বাঁধা যাবে না যাতে গাছের কাণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
সবশেষে মনে রাখতে হবে, ছাদবাগানের উদ্দেশ্য শুধু বাজারের ফলের টাকা বাঁচানো নয়। নিজের পরিবারের জন্য একটি সবুজ জায়গা তৈরি করা, শিশুদের প্রকৃতির সঙ্গে পরিচয় করানো এবং নিজের হাতে উৎপাদিত তাজা ফল খাওয়ার আনন্দও এর বড় অংশ। একটি ছোট লেবুগাছ থেকে শুরু করে ধীরে ধীরে পেয়ারা, ডালিম, ড্রাগন ফল-এভাবেই একটি কংক্রিটের ছাদও হয়ে উঠতে পারে ছোট্ট ফলের বাগান।



